রোগীর কোমর ব্যথা হচ্ছে বর্তমান বিশ্বে মানুষের কাজে অক্ষমতার একটি প্রধান কারণ।বর্তমানে চিকিৎসকের কাছে উপনীত হওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে কোমর ব্যথার স্থান সবার উপরে।সাধারণত প্রতিটি মানুষই জীবনে অন্তত একবার হলেও কোমর ব্যাথা উপলব্ধি করেছেন।

সৌভাগ্যক্রমে আপনি কোমরে ব্যথার বেশীরভাগ ক্ষেত্রগুলিতে প্রতিরোধ এবং উপশমের ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারেন। যদি প্রতিরোধ কার্যক্রম ব্যর্থ হয়, তবে বাড়িতে ঘরোয়া পদ্ধতিতে চিকিৎসা নিতে পারেন। এতে শরীর স্বয়ংক্রিয় ভাবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ব্যথা নিরাময়ের ব্যবস্থা করে তাকে কার্যকারী রাখবে। 

লক্ষন:
কোমর ব্যথার প্রধান লক্ষণ হল কোমরে এবং পেছনে কোথাও কোথাও অসহ্য রকমের ব্যথা করা।কখনো কখনো তা নিতম্ব থেকে শুরু করে সমস্ত পা পর্যন্ত অগ্রসর হয়।
কখনো কখনো এর দরুণ ব্যথা সংশ্লিষ্ট স্থানে থাকা নার্ভসমুহ আক্রান্ত হয় ফলে শরীরের অন্যান্য অংশেও ব্যথা অনুভূত হতে পারে।

কোমরে ব্যথা কোন কোন ক্ষেত্রে চিকিৎসা ছাড়াই চলে যায়। তবে আক্রান্ত ব্যাক্তি যদি নিম্নলিখিত সমস্যাগুলো উপলব্ধি করে থাকেন তবে তাকে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে:

১. ওজন কমে যাওয়া
২. জ্বর বোধ করা
৩. পিঠে বা কোমরে প্রদাহ বা ফুলে ওঠা, অবিরাম ব্যাথা করা
৪. পর্যাপ্ত সময় শুয়ে বিশ্রাম নেয়ার পরেও ব্যাথা না কমলে
৫. ব্যাথা হাঁটুর নিচ অবধি পৌঁছে গেলে
৬. কোমরে ব্যথার দরুন সাম্প্রতিক আঘাত বা ঘা আরও বেশি আক্রান্ত হলে
৭. প্রস্রাবে অসুবিধা
৮. মলত্যাগে অসংলগ্নতা বা অন্ত্রের নিয়মিত গতিপথের নিয়ন্ত্রণে ব্যাঘাত
৯. যৌনাঙ্গ বা মলদ্বারের চারপাশে অসাড়তা
১০. নিতম্বের চারপাশে অসাড়তা।

কারণসমুহ:
সাধারণত কোমরে ব্যথার পেছনে নিম্নলিখিত এক বা একাধিক কারণ থাকতে পারেঃ

১.অস্বাভাবিক অঙ্গবিন্যাস
২. ব্যায়াম এর অভাবে মাংসপেশী শক্ত এবং দুর্বল হলে
৩. মাংসপেশী স্ট্রেনস বা স্প্রেনস (Muscle Strains or Sprains)
৪. অতিরিক্ত ভারী বস্তু উত্তোলন
৫. কোন স্থান হতে পড়ে যাওয়া
৬. দীর্ঘসময় বসে কাজ করা
৭. উচ্চমাত্রার শারীরিক কার্যক্রম
৮. সমগ্রদেহ কম্পন করার মেশিন ব্যবহার
৯. ধূমপান করা
১০. স্থুলতা
১১. অতিরিক্ত দৈহিক উচ্চতা

মনে রাখতে হবে যে গুরুতর ব্যথা হওয়া মানে গুরুতর সমস্যা/রোগ হওয়া নয়। উপরে উল্লিখিত কারনগুলীর পাশাপাশি কিছু ব্যাপার রয়েছে যেগুলো কোমরে ব্যথার সাথে সম্পর্কিত। নীচে সেগুলো উল্লেখ করা হলঃ

১. মাংসপেশী বা লিগামেন্ট স্ট্রেনস
২. বাত ব্যাথা
৩. অস্টিওপোরেসিস
৪. হাড় এবং মাংসপেশীর মধ্যবর্তী ডিস্ক ফেটে যাওয়া বা ভেঙ্গে বুজে যাওয়া।

রোগ নির্ণয়:
একজন চিকিৎসক সাধারণত লক্ষনসমুহ জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং শারীরিক পরিক্ষা চালিয়ে রোগ নির্ণয় করে থাকেন।এক্ষেত্রে এক্সরে (X-ray), এমআরআই (MRI) বা সিটিস্ক্যান (CT scan) কোমরের নরম টিস্যুগুলির অবস্থা সম্পর্কে তথ্য দিতে পারে। 

চিকিৎসা:
আপনি আপনার শারীরিক অবস্থার উন্নতি করে এবং সঠিক ব্যায়াম শিখে তা অনুশীলন করে কোমর ব্যথা এড়াতে বা ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তি রোধ করতে পারেন।

আপনার কোমর স্বাস্থ্যবান এবং শক্তিশালী রাখতে করনীয়ঃ

১.পর্যাপ্ত ব্যায়াম করতে হবে
২.পেশীর শক্তি এবং নমনীয়তা বৃদ্ধি করতে হবে
৩. স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে হবে
৪. ধূমপান ত্যাগ করতে হবে

Over The Counter (OTC) ব্যথানাশক ঔষধ সাধারণত Nonsteroidal Anti-Inflammatory Drugs (NSAID) যেমন আইবুপ্রফেন (Ibuprofen)অসস্থি বা যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে পারে। যন্ত্রণাদায়ক স্থানে গরম ছ্যাকা বা আইস প্যাক রেখে ব্যথা হ্রাস করা যেতে পারে।

কঠোর বা ভারী ক্রিয়াকলাপ থেকে বিশ্রাম নেয়া আপনাকে ব্যথা থেকে পরিত্রাণ দেবে। তাছাড়া দেহ ডান ও বামে ঘুরিয়ে কিছুটা ব্যায়াম করলে ব্যথা কমতে পারে এবং পেশি দুর্বল হওয়া থেকে মুক্তি পেতে পারেন।