মা হিসেবে বাচ্চাকে বুকের দুধ পান করাতে অনেক রকম চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়। অনেক কুসংস্কার আছে বুকের দুধ পান করা নিয়ে, যা আসে পরিবার এবং প্রতিবেশী থেকে। চলুন এসব নিয়ে আলােচনা করা যাক।

কুসংস্কার-০১: সিজারিয়ান মা’র দেরীতে বুকের দুধ আসে।
মা’র বুকে কখন দুধ আসবে তাতে সিজার বা নরমাল প্রসবের উপর নির্ভরশীল নয়। এটি সম্পূর্ণ হরমোনের উপর নির্ভরশীল। সিজারিয়ান মা-ও কিভাবে নরমাল প্রসবের মার মত সন্তান দুগ্ধপানের অনুভূতি পেতে পারে । যেটি করতে হবে তা হল বাচ্চাকে জন্মের ১ ঘন্টার মধ্যে স্তনের সাথে সংযুক্ত করতে হবে, বাচ্চা যত বেশী চুষবে তত তাড়াতাড়ি দুধ আসবে।

কুসংস্কার-০২: মা’র জ্বর থাকলে দুধ পান করাতে পারবে না।
মা’র জ্বর আসলে শরীরে একই Antibody তৈরী হয় জ্বরের কারণের জন্য। এই Antibody দুধের সাথে বাচ্চার শরীরে চলে যায়। জ্বরে আক্রান্ত মা শুধু বাচ্চাকে দুধই দেয়ন সাথে Antibody-ও দেয় যা Infection-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। তাই মা অসুস্থ থাকলেও যেমন- জ্বর, কাশি, ঠান্ডা ইত্যাদিতে দুধ পান, করাতে পারবে। তবে হাঁচি, কাশি দিলে হাত ধুয়ে বাচ্চাকে ধরতে হবে।

কুসংস্কার-০৩: ভেজা চুলে বাচ্চাকে দুধ পান করানো যাবেনা।
মা’র ভেজা চুলের কারণে বাচ্চার ঠান্ডা লাগেনা, ঠান্ডা লাগতে পারে জীবানুর জন্য। তাছাড়া মার ত্বক ঠান্ডা হলে এটি দুধকে ঠান্ডা করবে তা ভুল ধারণা।

কুসংস্কার-০৪: মধু বাচ্চার হজমে সাহায্য করে।
বাচ্চার জন্মের পর কিংবা নিয়মিত অনেক মা মধু কিংবা মিষ্টি তরল ঠোটে বা মুখে দিয়ে থাকেন। সহজে বুঝতে গেলে খাবার শেষে আমরা মধু বা মিষ্টি জাতীয় কিছু খাই কারণ এটি তৃপ্তির অনুভুতি দেয়। তাই বাচ্চাকে এসব দিলে বাচ্চার তৃপ্তি অনুভূতি হবে এবং বাচ্চার দুগ্ধপান অভ্যাসে পরিবর্তন আসবে, এমনকি বাচ্চা কম দুধ খাবে অথবা খেতে চাইবেনা। অপরদিকে দুধ বাচ্চার মহা ঔষুধ যা কখনও বাচ্চার বদহজম করেনা। তাই এসব কুসংস্কারের সম্মুখীন হলে তাদেরকে এর কারণ জিজ্ঞেস করুন।

আশাকরি ব্যাখ্যাগুলাে জানা থাকলে কেউ কুসংস্কারে বিশ্বাস করবে না। জন্মের ৬ মাস পর্যন্ত বাচ্চাকে শুধুই বুকের দুধ খাওয়ান।