মাসিক নারীদের স্বাভাবিক একটি শরীর তাত্ত্বিক প্রক্রিয়া। এই সময়ের প্রথম 2-3 দিন ব্যথা অস্বস্তি হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু অসহনীয় ব্যথা যা আপনাকে আপনার দৈনন্দিন কাজকর্মে বাধা তখন সেটা স্বাভাবিক নয় । মেডিকেল টার্মে এটিকে ডিসমেনোরিয়া (dysmenorrhea) বলা হয় । মূলত ২ প্রকারের ডিসমেনোরিয়া রয়েছে :

১) প্রাইমারী ডিসমেনোরিয়া বা সাধারণ মাসিকের ব্যথা।
২) সেকেন্ডারী ডিসমেনোরিয়া যা প্রজনন অঙ্গের বিভিন্ন ব্যাধির জন্য হয়ে থাকে।

মাসিকের ব্যথার কারণ সমূহ

মাসিকের সময় ব্যথার সকলের জন্য এক নয়, ক্ষেত্র ও বয়স বিবেচনায় তা আলাদা হতে পারে সম্ভাব্য কারণ সমূহ নিম্নে দেওয়া হল :

  • কিশোরী ( 20 বছরের নিচে)
  • ডিসমেনোরিয়া পারিবারিক ইতিহাস
  • মাসিকে খুব বেশি রক্তপাত
  • গর্ভধারণের অক্ষমতা
  • ১১বছর বয়সের আগেই বয়সন্ধিতে পৌঁছে যাওয়া ।
  • হরমোনাল কারণ: প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন নামক একটি হরমোন শরীরে নিঃসৃত হয় যা জরায়ু সংকোচন কে বাড়ায় এবং মাসিক প্রক্রিয়া শুরু করে। জরায়ু সংকোচন ও অন্যান্য প্রক্রিয়ার জন্য পেট ব্যথা ও ক্রাম্পিং হতে পারে।

এছাড়াও আরো কিছু কারণ রয়েছে:

  • প্রিমিনিসট্রুয়াল সিনড্রোম
  • এন্ডোমেট্রিওসিস
  • ফাইব্রয়েড ইউটেরাস

ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে ঘরে বসেই যা করতে পারেন:

  • তল পেটে মালিশ করা
  • তল পেটে হট ব্যাগ ব্যবহার করা
  • উষ্ণ গরম পানিতে গোসল করা
  • ইয়োগা ব্যয়াম করা
  • পুষ্টিকর খাবার খাওয়া
  • ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট খাওয়া

চিকিৎসা

ঘরোয়া পদ্ধতি ব্যবহারের পরে ব্যথা উপশম না হলে অবশ্যয় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রয়োজন অনুযায়ী নিম্নোক্ত চিকিৎসা প্রদান করা হয়ে থাকে – [১]

  • এনএসআই ডি
  • এন্টিডিপ্রেসেন্ট
  • হরমোনাল থেরাপি
  • সার্জারি ইত্যাদি।