পেঁপের 10 টি প্রমাণিত স্বাস্থ্য উপকারিতা

benefits of papaya

(১) পেঁপে ও ওজন কমানো: ওজন কমানোর জন্য পেঁপে খুবই ভাল ফল, যাতে ক্যালোরি কম, পুষ্টিতে পূর্ণ এবং ডায়েটারি ফাইবার সমৃদ্ধ। তাছাড়া পেঁপে আপনাকে ক্ষুধা মেটাতে সাহায্য করবে।

প্রতি 100 গ্রাম পেঁপের পুষ্টিগুণ:

পেঁপেতে ক্যালোরি আছে- ৪৩
পেঁপেতে প্রোটিন আছে – ০.৫ গ্রাম
পেঁপেতে শর্করা আছে – ১১ গ্রাম
পেঁপেতে চর্বির পরিমাণ – ০.৩ গ্রাম

(২) পেঁপে ও হজম: পেঁপেতে প্যাপাইন নামক  এক প্রকার এনজাইম থাকে যা প্রোটিন জাতীয় খাবার (যেমনঃ মাছ, গোশত) হজম করতে সাহায্য করে। কাঁচা পেঁপেতে প্যাপাইনের পরিমাণ তুলনামূলক বেশী। তাছাড়াও বদ হজম এবং দীর্ঘদিনের ডায়েরিয়া ভাল করতে পেঁপে অনেক উপকারী।

(৩) পেঁপে ও ক্যান্সার: গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে, বিটা ক্যারোটিন সমৃদ্ধ পেঁপে প্রোস্টেট ক্যান্সার এবং কোলন ক্যান্সার ক্রমবৃদ্ধিতে বাধা দেয়। গবেষণায় আরও দেখানো হয়েছে যে, লাইকোপিন সমৃদ্ধ খাদ্য প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকির পাশাপাশি অন্যান্য ক্যান্সার হ্রাসে সাহায্য করে। []

(৪) পেঁপে ও কোলেস্টেরল: পেঁপে লাইকোপিনের একটি ভাল উৎস। লাইকোপিন একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা কোলেস্টেরলকে অক্সিডাইজিং করতে দেয়না। অক্সিডাইজড কোলেস্টেরল ধমনী সংকোচন করে।

(৫) পেঁপে ও চুল: যদিও কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই যে, পেঁপে চুল কমানোর জন্য দায়ী তবে চুলে ব্যাবহারের জন্য অনেক পণ্য পাওয়া যায় যা পেঁপের নির্জাস থেকে তৈরি।

(৬) পেঁপে ও স্ট্রোক: রক্তে লাইকোপিনের মাত্রা বেশী থাকলে তা ইসকেমিক স্ট্রোক এবং অন্যান্য স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।

(৭) পেঁপে ও ক্ষত: বাটা পেঁপে পোড়া যায়গা এবং ক্ষত তে লাগালে দ্রুত আরোগ্য হয় এবং সংক্রমণ হতে দেয়না।

রাশিয়ান বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন যে পেঁপেতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রাকৃতিক এনজাইম থাকে যা পোড়া এবং জখম দ্রুত নিরাময় করে। [২] পেঁপেতে ভিটামিন সি, ভিটামিন ই এবং বিটা ক্যারোটিন থাকে। এই সমস্ত অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমূহ প্রদাহ হ্রাসে অবদান রাখে।

(৮) পেঁপে ও চোখের স্বাস্থ্য: পেঁপেতে উপস্থিত ফাইটোকেমিক্যালগুলি বয়স্ক মানুষদের ভাল দৃষ্টিশক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। এই ফাইটোকেমিক্যালগুলি বয়স সম্পর্কিত ম্যাকুলার ডিজেনেরেশন (চোখে কম দেখা/না দেখা) প্রতিরোধ করতে পারে। লিউটিনএবং জিয়াজ্যান্থিন হল ক্যারোটিনোইড যা ক্ষতিকর উচ্চ শক্তির নীল তরঙ্গদৈর্ঘ্য ফিল্টার করে। [৩] এই ক্যারোটিনয়েড কোষ রক্ষা এবং সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।

(৯) পেঁপে ও মানব প্যাঁপিলোমা ভাইরাস: পেঁপেতে প্রচুর পরিমাণ লিউটিন, জিয়াজ্যান্থিন, বিটা-ক্রিপ্টোজ্যান্থিন এবং ভিটামিন সি থাকে।একটি গবেষণায় দেখা গেছে, এই পদার্থগুলো শরীরে বেশী পরিমাণ থাকলে তা প্যাঁপিলোমা ভাইরাস (সারভাইকাল ক্যান্সার)  দ্বারা সংক্রমণ কমায়। [৪] যেসব মহিলারা সপ্তাহে কমপক্ষে এক বা একাধিক পেঁপে খায় তাদের প্যাঁপিলোমা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক কম।

(১০)  ও অন্ত্রের পরজীবী: একটি গবেষণা দেখিয়েছে যে, পেঁপে ফলের পাশাপাশি পেঁপে বীজ পরজীবীর বিরুদ্ধে কাজ করে। গবেষণার জন্য, শুকনো পেঁপে বীজ পরজীবীতে আক্রান্ত শিশুদের খাওয়ানো হয়েছিল। ৭ দিন পর শিশুদের অন্ত্রে কোন পরজীবী পাওয়া যায়নি।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*